বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

কেন এমন হয়
জোনাকী আক্তার
**************************
ভাঙা গড়ার খেলায়
নিজেকে বারবার গড়ি,
দু:খ-সুখের ভেলায়
ঘুম ভাঙার মতই
কেটে যায় সুখের রেশ,
কেন এমন হয়-
হারানোর সুর কেন এতো যাতনাময়?
ছুঁতে গিয়ে তোমায়
গুটিয়ে নিই বারবার,
কোন সে মায়াবলে
তুমি আর নও আমার,
প্রলাপ বকে যাই
আমি একলা একাই,
কেন এমন হয়-
হারানোর সুর কেন এতো যাতনাময়?
কেন এতো অভিনয়
মেকি হাসির আড়ালে,
স্বপ্নবুনা দু'চোখ যেন
বাঁধ ভাঙা জোয়ারের ঢেউ,
তুমি ছুটে চলেছো
অন্য কোন মোহনায়,
কেন এমন হয়-
হারানোর সুর কেন এতো যাতনাময়?

Image result for image of lone girl

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কেউ রাখেনি খোঁজ
জোনাকী আক্তার
************************
উদ্ভ্রান্ত ঝড়ের দাপটে,
লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলাম
কেউ রাখেনি খোঁজ -
কত অপেক্ষার বলয়
একদৃষ্টে পাড়ি দিলাম
নিয়তি মেনে রোজ ।
শুষ্ক বুকে নদী বইলো দুকূল ছাপিয়ে জল,
সহস্রাধিক বার ডুবে গেলাম পাইনি খোঁজে তল।
আজলা ভরে কষ্ট কুড়িয়ে
সন্তর্পণে রেখে দিলাম
কেউ রাখেনি খোঁজ-
নিয়তির সেই ভাঙনের খেলায়
সবকিছুই মেনে নিলাম,
তবুও নাকি আমিই অবুঝ।
অঙ্কুরেই বিনষ্ট হলো ভালোবাসার কমল,
কেউ দেখেনি সেই ক্ষতটাও ছিলো প্রবল।
মরুর বুকে জল ঢালার ন্যায়
একাই ভালোবেসে গেলাম
চোরাবালিতে ডুবার মত
নিজেই যেন বিলিন হলাম
পাশে থাকার অঙ্গিকারেও
কেউ রাখেনি খোঁজ।
Image result for image of lonely girl

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৯

তোমাকেই চাই
জোনাকী আক্তার
****************************
কোন কাননে থাকে বলো
কোন গহীণে বাস?
এতো আপন ভেবেও কেন
তোমার মনের পাইনা খোঁজ?
তোমার মনে আমার নামে
আদৌ কি ভালোবাসা আছে ?
বার বার জানার জন্য-
তোমার আঙিনায় ঘুরি রোজ।
তোমার সাথে একই ছাদের তলায়
কত গল্প বলার ছিলো,
সময়ের সাথে মিলিয়ে গেছে,
নানান অযুহাতে তুমিও তাই।
মেঘের আড়ালে কিঞ্চিত্‍ রোদের ঝিলিক
যেমন মেঘগুলো লুকিয়ে ফেলে,
আমার কষ্টের ভিড়ে সুখের আবেশ পেতে
আমি শুধু তোমাকেই যে চাই।
ভালো থাকার যুদ্ধে যদি তুমি-
ভালোবাসাকেই হারিয়ে ফেলো,
তবে তোমার সে ভালো থাকার মানে
আমাকে একটু বুঝিয়ে বলতে পারো ?
আমি তোমার জন্য ভুলে যাবো সব
সমাজে রীতি-নীতি, তুচ্ছ করে বাধা-বিপত্তি
ছুটে যাবো তোমার কাছেই
অনন্তকালের জন্য যদি হাতটি তুমি ধরো।

Related image

মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯

সংশয়
জোনাকী আক্তার
***************************
এমনও ঘোর বর্ষনের মত
আমার আঙিনায় তুমিও নেমে এসো
যেন দু'হাত বাড়িয়ে
ছুঁতে পারি তোমায় অকপটতায়।
এমনও ঘোর বর্ষনের মত
আমার আঙিনায় তুমিও নেমে এসো,
স্নিগ্ধ পরশের জন্য দু'হাতে-
আজলা ভরে মাখবো সারা গায় ॥
আমি কানে পেতে রই দেয়ালের ওপারে
তুমিও কি শোনতে পাও ?
টুপটুপ বৃষ্টি পতনের ছন্দে
যেন ডাকছে তোমায় গানে গানে।
আমি কান রই দেয়ালের ওপারে
তুমিও কি শোনতে পাও ?
এ যেন সঙ্গীহীন একেলা বিষাদের সুরে
অচেতন মন মূর্ছিত ভালোবাসার টানে॥
আমার ধ্যান ভেঙ্গে যায়
শান্ত আকাশের বুকে বজ্রের আঘাতে,
কি আছে তোমার মনে লুকিয়ে ?
আমার বড্ড জানতে ইচ্ছে হয় ।
আমার ধ্যান ভেঙ্গে যায়
শান্ত আকাশের বুকে বজ্রের আঘাতে,
আলোকবর্ষ দূরত্বের মাঝে যেন তুমি মরীচিকা
সংশয়ে কেঁপে উঠি, তবে কি আমরা কেউ কারো নয় ??
Image may contain: plant, tree, outdoor and nature

বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৯

তরঙ্গহীন জল
জোনাকী আক্তার

আনমনে আকাশ পানে চেয়ে
গুণা হত কত তারা হাতে হাত রেখে,
কখনোই ভাবিনি তোমারও ঠাঁই হবে
তারাগুলোর সাথে আকাশের এক কোণে ॥

স্বর্থপর তুমি একবারও ভাবোনি
তোমাকে ছাড়া কতটা সঙ্গীহীন আমি ,
কত বার ভাবি তোমার পথেই যাব চলে
মিছে ভালোবাসার অন্তরালে ॥

সুখগুলোও আজ বিষাদে পূর্ণ
চোখের কোণ থেকে ঝরে অশ্রু হয়ে
নিসঙ্গতার কষ্টগুলো ভালোবাসা হারানোর বেদনায় ॥
তোমার প্রতীক্ষায় 
 জোনাকী আক্তার

 ভুলে গিয়ে সব অভিমান
 ফিরে কি আসা যায় না একটিবার ?
 বিনিময়ে চাইবোনা কোনো প্রতিদান 
ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবো হৃদয় তোমার ।

 তোমার আমার মাঝে গড়ে ওঠা
 বিভেদের দেওয়াল চূর্ণ করে
 আবারো কি এক হওয়া যায় না সখা
 দু'টি দেহের এক আত্মার সমন্বয় চিরতরে ।

 ছেড়ে যাওয়া হাতটি আবারো ধরে
 যায়না কি হাঁটা একি পথে ?
 ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্ন আবারো সাজিয়ে
 দু'জনে মিলে যায় না পারি জমানো জীবনের রথে ? 

যেভাবেই পারো ফিরে আসো তুমি
 দিনমান কেটে যায় তোমায় ভেবে ,
 তোমার প্রতীক্ষায় রয়েছি আমি 
 না ফেরা অবধি তোমার ভালোবাসা তোমারি রবে
গোধূলী প্রহর

নীলা জানে আবিরের সাথে আর কোনো দিন দেখা হবে না । দেখা হওয়াটা সম্ভবও না । তবুও নীলা আবিরকে এক পলক দেখার জন্য ছটফট করে । মধ্যরাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আবিরকে খোঁজার চেষ্টা করে । নীলা জানে না কোন তারার গুলোর মাঝে আবির লুকিয়ে আছে । এক সময় আবির পাগলের মত ভালোবাসত নীলাকে । কিন্তু নীলার আজ মনে হচ্ছে আবির তাকে ভালোবাসেনি । যদি ভালোবাসত তবে কখনোই অন্য জগতে চলে যেত না নীলাকে একা রেখে ।কথা রাখেনি আবির । স্বার্থপরের একাই মত চলে গেছে । আবির এক বারও ভাবেনি , তাকে ছাড়া তার পাগলীটা কতটা অগোছালো হয়ে যাবে । নীলা বড়ই অগোছালো হয়ে গেছে । নীলা বারান্দায় বসে বছর খানেক আগের কথা ভাবছে । সেমিষ্টার ব্রেকে সবাই বাড়ি যায় । আবিরও তাদের বাড়ি চলে যায় । যেদিন আবির বাড়ি চলে যায় ।

ওই দিনটিই ছিলো নীলার জীবনে কালময়ী দিন । নীলা আবিরের সাথে বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত আসে । রিহাদ আর আবিরের বাড়ি পাশাপাশি। তাই দুইজনে একসাথেই বাড়ি যায় ।আবির বাসের টিকেট কেটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ।নীলাও বাসায় ফিরে আসে। ঘন্টা খানেক পর আবির নীলাকে কল দিয়ে জানায় ভাটারা চলে গেছে । কিন্তু নীলার মনটা সেদিন বেশিই খারাপ হয়েছিলো । সে আবিরকে বলেই ফেলে , "তোমার চলে যাওয়া মনে হচ্ছে যেন একেবারে চলে যাচ্ছো আসতে আসতে অনেক অনেক দূরে। " আবির সব কিছুতেই নীলার সাথে মজা করত । আবির বলে , আগে বেশি ভালোবাসছিলে । তাই কখনোই দূরত্বটা মনে হতোনা । সব সময় কাছেই মনে হতো । "বলেই আবির হাসতে থাকে । নীলা রেগে বলে , তার মনে এখন ভালোবাসিনা ?আবির তখন বলে , "ভালোবাসো তবে আগের থেকে অনেক কম ।" নীলা পরে কথা হবে বলে ফোনটা রেখে দিবে । আবির তখন হাসতে হাসতে বলে , "ওই পাগলী , আমি তো জানি তুমি অনেক ভালোবাসো । মজা করতে কি পারিনা তোমার সাথে ?
ঠিক আছে এখন রাখছি । তবে শোন , ভালোবাসি আমার পাগলীটাকে । নীলা তখন জানায় , কাউকে ভালোবাসতে হবে না । তবে তুমিও শুনে রেখো ভূতের দাদার দেখা পেলে, তাকে জানিও আমিও তাকে ভালোবাসি । আর বাড়ি পৌঁছে গেলে জানাবে। আবির পারবোনা বলে ফোনটা কেটে দেয় হাসতে হাসতে ।

কিছুদুর যাওয়ার পরই বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় । আবিরের সাথে বন্ধু মাথায় আঘাত পায় । কিন্তু আবির বাস থেকে ছিটকে পড়ে যায় । আবির ঘটনাস্থলেই মারা যায় । নীলার সাথে আবিরের শেষ দেখাও আর হয়নি ।

রিহাদকে হসপিটালে ভর্তি করে । ওইদিকে নীলার দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে । সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে যায়। আবিরের কোন খোঁজ নেই । কোন মতে রাত পার করে নীলা আবিরের ছোট বোন টুম্পাকে কল দেয় । অনেকক্ষণ রিং হওয়ার পর রিসিভ করে । টুম্পার সাথে নীলার মাঝে মাঝে কথা হতো আবির বাড়ি গেলেই । টুম্পা ফোন রিসিভ করেই কান্না শুরু করে । কি হয়েছে জানতে চায় নীলা । টুম্পা বলে শুধু ভাইয়া আর নেই বলেই কান্না শুরু করে । আর কিছুই বলতে পারিনি ।নীলা ফোনটা হাতে নিয়েই বসে পড়ে । তারপর থেকেই সবার থেকে দূরে থাকে । কারো আর মিশেনা , নীলার জীবন থেকে হাসি মাখা মুখটা চিরতরে বিলীন হয়ে যায়। বেশির ভাগ রাত কেটে যায় নীলার আকাশের দিকে তাকিয়ে । কখনো বারান্দায় বসে আবির রেখে যাওয়া স্মৃতি হাতরে ।
বসন্ত বিদায়
জোনাকী আক্তার
****************************
বসন্ত তোমাকে জানাই বিদায়
ফের এসো ললনার হাতে
লাল- হলুদ ফুলের সমারোহে
রচিত ভালোবাসার তোড়ায়।
ফাল্গুনে ভ্রমরের ঘুম ভাঙানির গুনগুন গান,
চৈত্রের খর রৌদ্রের দাবদাহের লগ্নে
এক পশলা ঝড়ো হাওয়া হয়ে
তোমার আগমনীর বার্তা দিও জানান।
কোকিলের মৃদু মধুর কুহু তানে
প্রকৃতিতে সঞ্চারিত হয় নব প্রাণ,
যখন বসন্ত এসে ছুঁয়ে দেয় প্রকৃতি ললাটে
ফের এসো বসন্ত বাঙালির টানে।
আজ বিষন্ন বদনে ঝির ঝির হিমেল হাওয়ায়
জানাই বিদায় হে ঋতুরাজ,
বছর ঘুরে আবারও এসো ফিরে
সাজিয়ে পশলা নতুনত্বের ভালোবাসায়।
অনাকাঙ্খিত জীবন
জোনাকী আক্তার
**************************
জীবন সে তো বর্ণচোরা
কখনো রঙিন , কখনো বা সাদা মাটা
মেঘের পালকে ভর করে
ভেসে চলে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
খর রৌদ্রের মাঝে , ঝড়বৃষ্টিতে ভিজে
প্লাষ্টিকের বোতল কিংবা অব্যবহৃত ফেলে দেওয়া জিনিস
সারাদিন ব্যাপী অনাহার-অর্ধাহারে সংগ্রহ করে
সাঁঝের বেলায় বিক্রি করে কয়েক টাকা সেরে।
এরাই সুশীল সমাজে টোকাই কিংবা পথ শিশু নামে অভিহিত
এদের পরিবার বলতে থাকে শুধুই মা;
কখনো অন্যের কাছে আশ্রিত
কারও আবার সেটুকুও নেই
দলবদ্ধ হয়ে রাত্রি যাপন করে রেলষ্টেশনে।
মাতৃ-পিতৃর স্নেহহীন বেড়ে উঠা শিশুগুলো
সমাজের মুখোশধারী লোকের অপশক্তি,
এদের দিয়েই টাকার বিনিময়ে হাতিয়ে নেয়
মাদক পাচার কিংবা সমাজদ্রোহী অপকাজ।
জীবনটা এদের বড্ড অনাকাঙ্খিত
অবহেলায় জর্জরিত জীবনে দু'মুঠো অন্নের বিনিময়ে জীবন বাজি রাখে,
স্রষ্টা তুমি হেফাজতে রেখো প্রতিটি পথশিশুকে
রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে আহার দিও , মাথার উপর ছাদ দিও রাত্রিকালে।
মেঘলা আকাশ
জোনাকী আক্তার
*******************
তোর মেঘলা আকাশ
আমায় করে উদাস
আমার বৃষ্টির আহ্বানে
তুই বিমুখ করিসনে।
আমার বিরস রজনী
বদ্ধ পাখির ডানাঝাপ্টানি,
তোর মনের অলিগলিতে
ঘুরিফিরি তোরই অজান্তে।
তোর মেঘলা আকাশ
আমার ভাবনার অবকাশ,
আমার মেঘলা বিজনবেলা
লাগে ভারি একেলা।
দোহায় লাগে তোর
এনে দে একমুঠো রোদ্দুর,
তোর মেঘলা বদনে
আমার জল ঝরে নয়নে।
তোর মেঘলা আকাশ
কেন আমায় করে উদাস ?
মৃত্যুকূপ
জোনাকী আক্তার
****************************
বিষাক্ত এ শহরের অলিতে-গলিতে
তাজা তাজা মৃত লাশের স্তূপ,
কিছুদিন চলে শোকমিছিল আর হৈ-হুল্লুড়
এরপরেই হয়ে যায় একেবারে নিশ্চুপ।
আমরা প্রতিনিয়তই ভুলে যাই
এক একটি লোমহর্ষক মৃত লাশের গল্প,
বোকা মানুষগুলোকে আশা-ভরসা দিয়ে
রাত-দুপুরে কত দেখাই কল্প।
এরপর আবারও এ বিষাক্ত শহরে
শব্দদূষণ ঘটে অর্ধমৃত মানুষগুলোর আহাজারিতে,
তখন মুখের বুলিতে সান্ত্বনা দিতে ব্যস্ত
কেউ বা এক-দুই করে মৃতের সংখ্যা গুণতে।
বিষাক্ত এ শহরের আকাশে-বাতাসে
ধুলি-বালির প্রতিটি কণায় যেন লুকায়িত,
এক একটি মৃত্যুকূপ চোরাবালির মত
না জানি কোন অভিশাপে মৃত্যুর কোলে হচ্ছে শায়িত।
আকুল প্রার্থনা তোমার নিকট, হে বিধিরাম
রক্ষা করো তোমার সকল নির্বোধ সৃষ্টি
ক্ষমা করো সকলের ভুল-ত্রুটি
তুলে নাও লোমহর্ষক অভিসম্পাতের দৃষ্টি।
বসন্তের আগমন
জোনাকী আক্তার
***********************
আজ বসন্ত এসে গেছে
কোকিলের গানে গানে,
গাছে-গাছে , শাখে-শাখে
পত্র-পল্লবে, পুষ্প-মঞ্জরিতে।
আজ প্রকৃতি সেজেছে নবরূপে
বাতাসে-বাতাসে মুকুলের গন্ধে,
পাখ-পাখালির কলতান ধ্বনিতে
মন নেচে উঠে বসন্তের উল্লাসে।
আজ বসন্ত এসে গেছে
কিশোরীর বাতাসের তালে-তালে
নৃত্য করা খোলা চুলে
হলুদের মাঝে লাল পেরে শাড়িতে।
আজ মুখরিত কোলাহলের মাঝে
আমি হারাতে চাই তোমার সাথে,
বসন্তের নয়নাভিরাম সাজ
আমি ছুঁতে চাই তোমায় নিয়ে।
রামধনুকের সাতরঙে রাঙিয়ে
আমিও জানিয়ে দিতে চাই,
আজ বসন্ত এসে গেছে
যদি তুমি থাকো পাশে ॥
তুমি এসো
জোনাকী আক্তার
****************************
যদি তুমি এসো আলোর মশাল হাতে
আমার ভালোবাসার আঙ্গিনায় ,
তবে ঘুচে যাবে আমার শূণ্য হৃদয়ের হাহাকার
জ্যোতিময় হয়ে উঠবে আমার হৃদয়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রকোষ্ঠ।
যদি কখনো তোমার চরণ পড়ে
আমার শহরের বিবর্ণ ক্যানভাসে,
তবে গোটা শহর ছেয়ে যাবে
বাহারি রঙের রঙিন ফানুসে।
যদি তুমি এসো স্বপ্ন কিংবা কল্পনায়
আমার ভাঙ্গা আয়নার মত স্বপ্নগুলো,
নিমিষেই যেন জোড়া লেগে দেখাবে
শুধুই তোমাকে নিয়ে ঘরবাঁধার স্বপ্ন।
যদি কখনো তুমি উঁকি দাও ; আমার ভাবনায়
তবে আমি কবিতায় লিখে জানাবো সবাইকে,
তোমরা এসে এক পলক দেখে যাও
যে এসেছে সেই তো আমার ভালোবাসার অনিমেষ।
তুমি এসো অন্তত একটি বারের জন্য
আমার মনের আঙ্গিনায় কিংবা দৃষ্টির সীমানায়,
তোমাকে একটি বার ছুঁয়ে দেখবো
তারপর সে স্মৃতিটুকু আঁকড়ে অনন্তকাল পার করে দিবো।
বিবেকের দহন
জোনাকী আক্তার
*********************
এখনো ঘুমাচ্ছো?
এই যে কত আহাজারি চারপাশে,
বাতাসে বাতাসে আর্তনাদের ধ্বনি।
তুমি নাকি সাদা কাগজের বুকে কলম চষে-
ভালোবাসার ছলাকলা নিয়ে কত কিছু লিখো ?
ইচ্ছা কি করে না?
অন্যায়-অবিচার, অশৃঙ্খল আর অনিয়মের বিরুদ্ধে -
নির্দোষী নিরহদের চোখে অশ্রু ঝরার কথা লিখতে ?
তবে কিসের এত ঘুম তোমার ?
নাকি জেগে উঠতে ভয় পাচ্ছো ?
কিসের ভয়ে ঘুমন্ত তুমি,
অকালে প্রাণ হারানোর ভয়ে ?
যেখানে পদে পদেই মনে হয়
মৃত্যুর ফাঁদ পাতা ছড়ানো ছিটানো জাল,
সেখানে কি বাঁচার নিশ্চয়তা আছে?
অসংখ্য মৃতদের মিছিলের দাবী কি তুমি শুনতে পাচ্ছো না ?
জেগে উঠো তুমি-
নির্ভীক যোদ্ধার মত হাতে কলম তুলে নাও,
লিখনিতে ফুটিয়ে তুলো প্রতিটি
অন্যায়, অত্যাচারী জালিমের প্রতিচ্ছবি।
ভয় কিসে বলো ?
অসীর চেয়ে মসীর শক্তি বেশী
একদিন না একদিন শেষ হবেই
তোমার এ অঘোষিত যুদ্ধের ময়দান।
তাং-৩/০১/২০১৯ইং
বলছি তোমায়
জোনাকী আক্তার
***************************
যদি তোমায় বলি....
হরেক রকমের উপমা অনুকরন করে
আমার রচিত কাব্যে তোমায় ছন্দ হতে,
বলো হবে কি অনিমেষ, বলো হবে কি ?
আমার আকাশ ডুবে আছে কালো মেঘে ঢেকে
আলোকের ছোঁয়ার জন্য যেন তৃষ্ণার্ত,
সেই আকাশে চাঁদ হয়ে জ্যোত্‍স্নার আলো বিলাতে
বলো পারবে কি অনিমেষ, বলো পারবে কি?
যদি তোমায় বলি....
আমার ভূবন জুড়ে যে শূণ্যতার বসবাস,
তোমার ছোঁয়ায় পূর্ণতায় ভরিয়ে দিতে
বলো দিবে কি অনিমেষ, বলো দিবে কি ?
এই যে আমার একলা পথ চলা
হোঁচট খেয়ে মাঝপথে কখনো থেমে যাওয়া,
ছায়াসঙ্গী হয়ে হাতটি ধরে পথের দিশারী হতে
বলো হবে কি অনিমেষ, বলো হবে কি ?
যদি তোমায় বলি.......
পাশে বসে হাতের উপর হাতটি রেখে,
সাতজনমের সাথী হয়ে আপন করে নিতে
বলো নিবে কি অনিমেষ, বলো নিবে কি?
কথার উপর কথা বলে কত কথায় বলে থাকি
কল্পে তোমায় সাজিয়ে যখন মনের কথা বলে ফেলি
তখন তুমি বিরক্ত হয়ে দূরে চলে যাবে নাতো
বলো যাবে কি অনিমেষ, বলো যাবে কি ?
Related image

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯

আহ্বান
জোনাকী আক্তার
****************************

চলো...........
জমিয়ে রাখা কিছু কষ্ট উড়াই,
সময়ের ব্যবধানে ব্যস্ততার অজুহাতে
হৃদয় ঘেটে দেখো কষ্টের বৃহদাকারের স্তূপ।

চলো..........
কিছু অভিমান গুঁড়িয়ে দেই,,
অনেক তো হলো মান-অভিমান
এবার না হয় অতীতের সব ভুলে গেলাম।

চলো.........
কিছু শূণ্যতার অনুভূতি মিশিয়ে দেই,
দূরের মেঘহীন আকাশের নীলিমায়
সবিনয়ে শুধু দূরত্বটা ঘুচিয়ে দিও।

চলো.......
তুমি-আমি এক সূত্রে গেঁথে যাই,
জন্ম -জন্মান্তর যেন একই বাঁধনে বেঁধে
সুখ-দু:খের সাগরে একসাথে করবো স্নান ।
Image result for image of couple

বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮

দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে বাসাতে ফিরলাম।দুইটা ক্লাস ছিলো তাই তাড়াতাড়ি বাসাতে চলে আসছি। এরই মাঝে আম্মু রুমে আসলো।
আম্মু- নিতু রেস্ট নিয়ে , খেয়ে রেডি হয়ে থাকিস। বিকেলে তোকে দেখতে আসবে।
আমি-(দেখতে আসার কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লাম।হঠাত্‍ করে কি এমন হলো যে, আমাকে দেখতে আসবে? ) বলা নেই , কওয়া নেই দেখতে আসবে মানে? আমি যেতে পারবো না।
আম্মু- তা যেতে পারবি কেন? ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ক্যাফেতে অন্য ছেলের সাথে ঠিকই দেখা করতে পারবি।কোনো কথা শুনতে চাইনা। বিকেলে যেন তোকে রেডি থাকতে দেখি।
আমি- (খাইছেরে, আম্মু অভির কথা জেনে গেলো নাতো আবার? দুর ছাই।অভির কথা আম্মুকে কে বলবে? আবার বললেও বলতে পারে।পাশের বাসাতে হ্রামী ফাহিম(আমার ক্লাসমেট) থাকে।কিছুদিন আগে অভির সাথে ক্যাফে তে ছিলাম।ক্লাসে নাম ডেকেই স্যার চলে গেছে।তা তো আম্মুর জানার কথা না। যাই হোক আম্মুর কাছে জানতেই হবে ক্যাফেতে কার সাথে দেখা করেছি? ) আমি আবার কার সাথে দেখা করছি ?তাও আবার ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ?
আম্মু-সেদিন ফাহিম বললো, তুই নাকি কোন ছেলের সাথে ক্যাফে তে বসে আড্ডা দিচ্ছিস?
আমি-ওও আগে বলবেনা?সব গুজব আম্মু। এসবে কান দিও নাহ।
মনে হয় কোনো ক্লাস হয়নি , তখন কোনো বন্ধুর সাথে চা খেতে গিয়েছিলাম। আর হ্রামী ফাহিম এসে তোমার কান পঁচিয়ে গেছে।
আম্মু- তা তো আমি জানিনা।ওর কথা শুনে তোর বাবা ছেলে ঠিক করেছে। আজকে দেখতে আসবে, আর সাতদিনের ভেতর কথা পাকা করা হবে।যে যাই বলুক, তোকে তো একদিন পরের ঘরে যেতেই হবে।
আম্মু চলে গেলো। অভিকে ফোন দিলাম।
আমি-অভি শুনছো? আজকে আমাকে দেখতে আসবে।প্লিজ কিছু করো।আব্বু নাকি ওই খানেই বিয়ে দিবে আমার।
অভি-ধুর, এসব গুজবে কান দিও না তো। আমি দেখতেছি কি করা যায়? তুমি লক্ষি মেয়ের মত ওদের সামনে যাও।চিন্তা করো না।আমি আছি তো তোমার পাশে।একদিন আগে হোক আর পরে হোক, বিয়ে তোমার আমার সাথেই হবে ইনশাল্লাহ।তুমি রেডি হতে থাকো।আমি কালকে ছেলের বাবার সাথে কথা বলবো। ঠিকানা দিও আমাকে।
আমি- ঠিক আছে।যা করার ভেবে চিন্তে করো।
অভির সাথে কথা বলে , খেয়ে রেডি হয়ে রুমেই বসে রইলাম।অভি কি করবে বুঝতেছিনা।বিকেলে ছেলে, ছেলের বাবা আর কে কে যেন দেখতে আসছিলো।দেখে চলে গেলো।আব্বু বলতেছে আগামী সপ্তাহেই বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হবে।আমি আব্বুর ফোন থেকে ছেলের বাবার ফোন নাম্বার, আর আম্মুর কাছে থেকে তাদের বাসার আর ছেলের বাবার অফিসের ঠিকানা জেনে নেই।

এরপরে রাতে জোগাড় করা তথ্যগুলো অভিকে টেক্সট করে পাঠিয়ে দিলাম।সে নাকি ছেলের বাবার সাথে অফিসেই দেখা করবে।কালকে এর একটা বিহিত করতেই হবে।হ্রামী ফাহিম্মার এতো বড় কলিজা? আমার পিছনে লাগলে কি হাল হয় এবার বুঝবে।
পরের দিন ভার্সিটিতে গেলাম।ক্লাসরুমে গিয়ে দেখি পিছনের সারিতে বসে আছে।শয়তান, কুত্তা , বিলাই আজকে তোরে খাইছি।মনে মনে ওর চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করে ফেলছি।নাহ্, মাথা গরম করা যাবেনা।ঠান্ডা মাথায় কিছু করতে হবে।তাই ওর পাশেই সিটেই বসলাম।ক্লাসরুমে স্যার আসতে পাঁচমিনিট বাকি আছে।এর মাঝে ওর সাথে আড্ডা জমাতে হবে।
আমি-কি রে কি অবস্থা তোর?
ফাহিম- ভালো, তোর কি খবর?
আমি- একদম ভালো।সাথে একটা সুসংবাদও আছে।
ফামিম- কি খবর? বলে ফেল।কতদিন হলো কোনো সুসংবাদ শুনিনা।
আমি-সামনের সপ্তাহে আমার বিয়ে।
ফাহিম- আরেহ্ বলিস কি? এতো দেখি মহা সুসংবাদ।এই উপলক্ষ্যে কিন্তু তোরে খাওয়াইতেই হবে। কোনো না শুনতে চাইনা।
আমি-আরেহ আস্তে বল, সবাই শুনতে পাবে।তুই খাইতে চেয়েছিস খাবি।কিন্তু অন্যদের আজকে খাওয়াতে পারবোনা।
ফাহিম- আচ্ছা ঠিক আছে। তবে কিন্তু আমি মিস করতে চাইনা।
ফাহিমের অপরপাশে রুমকি বসা ছিলো।আমাদের কথাবার্তা ও কিছুটা শুনেছে।বাকিরা নিজেদের মাঝে আড্ডাতে ব্যস্ত।
রুমকি- কি রে খাওয়ার গন্ধ পাচ্ছি।যেই খাস না ক্যান? আমারে বাদ দিলে খুন করে ফেলবো তোদের দুইজনকে।
ফাহিম- তুই নাকটা ক্যান সুপারগ্লোব দিয়ে বন্ধ করস না?সারাদিনই খাস তো, আর মানুষের কথার মাঝেও সেই গন্ধ খোঁজে পাস।রাক্ষসী কোথাকার । যা শুনেছিস সব গুজব।এসব গুজবে কান দিস না।
আমি- আরে ঝামেলা করিস না।ঠিক আছে তোরা দুইজনেই খাবি।যা বলার পরে ক্যাফে তে বলবো। এখন ক্লাস কর।এরই মাঝে ক্লাসে স্যার চলে আসছে।
ক্যাফেতে ওরা যা খাবে তাই অর্ডার করলাম।রুমকি এর মাঝেই কারনটা জেনে গেছে।ফাহিম , আর রুমকি একপাশে বসতে বললাম।মিশু(আমার বান্ধবী) কে ফোন করে আসতে বলেছি। আমি আর মিশু তাদের সামনে বসেছি।ও না থাকলে পরে শুনলে,রাগে চুল ছিঁড়বে আমার।তাই কোনো রিস্কি নিলাম না।টাকা যাক, ফাহিম্মারে তো সায়েস্তা করতে পারবো। এই সুযোগে আমি কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম খাবার সহ।খাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে ক্লাসে চলে গেলাম।
অন্যদিকে অভি তার বন্ধুকে পাঠিয়েছে ছেলের বাবার কাছে।অবশ্য আগে অনুমতি নিয়েছিলো দেখা করার জন্য।
অভির বন্ধু- আংকেল ভিতরে আসবো ?
ছেলের বাবা- হ্যা, আসো। বসো।
অভির বন্ধু- আসলে আংকেল, আপনাকে কিছু কথা বলার ছিলো।ফোনে এতো কথা তো বলা সম্ভব না, তাই সরাসরি বলতে আসলাম।কিন্তু কিভাবে বলবো বুঝতেছিনা।আর আপনিই বা কি মনে করবেন? প্লিজ আংকেল ভুল বুঝবেননা।আমি আপনাদের ভালোর জন্যই এখানে আসছি।
ছেলের বাবা- এতো ভনিতা না করে বলে ফেলো।
অভির বন্ধু-শুনলাম আপনার ছেলের জন্য মেয়ে ঠিক করেছেন।কিন্তু ওই মেয়ের বেপারে ভালো করে খোঁজ খবর নিয়েছেন।
ছেলের বাবা-হ্যা, খোঁজ নিয়েছি তো।মেয়েও আমাদের পছন্দ হয়েছে।কিন্তু কি হয়েছে বলো তো?
অভির বন্ধু- আসলে আংকেল ওই মেয়ের সাথে একটা ছেলের দুই বছরের সম্পর্ক আছে।ওরা নাকি পালিয়ে যাবে বিয়ের আসরেই। যদি আগে পালাতে না পারে। আর বিয়ের আসরে পালাতে না পারলে। বিয়ের পরে হলেও ওরা নাকি পালাবে বাসা থেকে।আমি ওদের কথা শুনেছিলাম। তাই বলতে আসলাম।এখন আপনিই বলেন, এমন মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে আপনার ফুটফুটে ছেলের জীবনটা নষ্ট করবেন?
ছেলের বাবা- কখনোই না।আমার ছেলে চিরকুমার হয়ে থাকলেও এমন মেয়ে ঘরে তুলবোনা।কিন্তু মেয়ের বাবা তো বললো, উনার মেয়ে নাকি বাইরে একদম সময় নষ্ট করেনা।কোনো ছেলের সাথেও নাকি তেমন কথা বলেনা।
অভির বন্ধু- না না , আংকেল।এগুলো সব গুজব, এসব গুজবে কান দিবেন না।ওদের মেয়ে যদি এতোই ভালো হতো, তবে পড়াশুনা শেষ হলেই বিয়ে দিতো।আমি আসি, আমি যা শুনেছি তাই বলে গেলাম।এখন বাকিটা আপনাদের ইচ্ছা।
ছেলের বাবা-তা অবশ্য ঠিক।মেয়ে কে নিজেরা সামলাতে পারেনা বলেই , অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চাচ্ছে।আজকেই না করে দিবো।ঠিক এসো বাবা, বাঁচালে আমাদের।
অভির বন্ধু চলে এসে অভিকে সব খবর জানালো।
অভির সাথে কথা অনেকটা চিন্তা মুক্ত লাগতেছে। তবে পুরোটা চিন্তা মুক্ত হতে পারিনি।কারন ছেলের বাবা তো এখনো আব্বুকে ফোন করেনি। করবে নে, যখন খুশি। আমি আমার কাজ করি।ফাহিমরে তো শায়েস্তা করতে হবে।আম্মুকে একটু দরকারের কথা বলে ফাহিমদের বাসাতে গেলাম।কলিং বেল চাপতেই ফাহিমের মা(
আন্টি) দরজা খুলে দিলেন।
আন্টি- আরে নিতু যে।অনেকদিন ধরে তো আসোই না। কি হয়েছে আসো না যে?
আমি- না না আন্টি কিছু হয়নি, ফাহিম ভিতরে আছে?
আন্টি-ও তো বাসাতে নেই।তুমি ভিতরে আসো।কোনো দরকার আছে?
আমি-তেমন দরকার নেই। গ্রোপস্টাডির জন্য কথা আসছিলাম।
আন্টি-দেখছো ? তোমরা শুধু পড়াশুনা নিয়েই ব্যস্ত।আর আমাদের বান্দরটা সারাদিনই আড্ডাতে ব্যস্ত।
আমি-(এই তো মুক্ষম সুযোগ, এবার আন্টির কানটাও পঁচাতে হবে। এবার বুঝবি ফাহিম্মা নিতু কি?) তা অবশ্য ঠিক।ফাহিম একটু বেশিই আড্ডা দেয়।জানেন আন্টি, ও সব সময় পিছনে বসে।আর সারা ক্লাস কথা বলে।মাঝে মাঝে টিচারও চুপ থাকতে বলে ওরে। ওকে বইলেন একটু সিরিয়াস হতে।এমন হলে তো, রেজাল্ট একদম খারাপ হবে।ও তো আমার বন্ধু , ওর খারাপ টা আমি চাইতে পারিনা।
আন্টি- আমি জানি তুমি অনেক ভালো।আজকেই ওরে ঠিক করবো।বাসাতেও আড্ডা , ভার্সিটিতেও আড্ডা।হয় পড়াশুনা করবে, না হলে আড্ডা দিবে।
আমি-আমি যে কিছু বলছি, ওরে বইলেন না।তাহলে আবার আমার সাথে রাগারাগী করবে।আর কথা বলি আন্টি, ফাহিমকে টাকা পয়সা কম করে দিবেন।
আন্টি- কেন , কি হয়েছে?
আমি-(সেদিনের তুলা ছবি দেখিয়ে)এই দেখেন আন্টি, ও এই রকম মেয়েদের খাওয়ায় প্রতিদিন।আমি প্রায়ই ক্যান্টিনে খেতে যাবার সময়ে দেখি।
আন্টি- তাই তো এতো টাকা লাগে কেন ওর? আজকে আসুক, আজ থেকে টাকা দিবোনা, বাসা থেকে টিফিন বানিয়ে দিবো। গাড়ি ভাড়া , মোবাইলের বিল যা লাগে সব আমি দিবো।এবার দেখবো কি করে এমন বেশি খরচ করে। মাঝে মাঝে ওর ক্লাসেও গিয়ে দেখে আসবো।পিছনে বসা দেখলেই ওর খাবার বন্ধ করে দিবো।
আমি-(বাহ!বাহ! এটাই তো আমি চাই। এবার বুঝবি ফাহিম্মা) ঠিক আছে আন্টি , আপনি যা ভালো মনে করেন , তাই করবেন। আমি শুধু আমার কথা বলা গেলাম।আর একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, আপনাকে কিন্তু আজকে অনেক সুন্দর লাগতেছে।কাহিনী কি বলুন তো? (পাম দিতে একটু প্রসংশা করা)
আন্টি-ওই আর কি ? আজকে একটু পার্লারে গিয়েছিলাম ।(আমি জানি উনি নিয়মিত পার্লারে যান, সিরিয়াল দেখে , সেই রূপচর্চার পর্বও মিস করেন না)
আমি- খুবই ভালো।মাঝে মাঝেই যাবেন।দেখেছেন , কেমন স্মার্ট স্মার্ট লাগতেছে আপনাকে।আজকে আসি আন্টি।
আন্টি-আরেহ এখনি যাবে ?চা খাবেনা ?বসো বসো আমি চা আনতেছি।
এরপরে চা খেয়ে আমাদের বাসাতে ফিরে এলাম।
বাসা তে পা রাখতেই দেখি আব্বু রাগারাগী করতেছে।এরপরে আম্মুর কাছে শুনলাম, ছেলের বাবা নাকি বলেছে মেয়ে ভালো না।অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে, পালিয়ে যাবে। এই রকম হাবি জাবি কথা বলেছে। আমাকে দেখে আব্বু ডাকলো-
আব্বু-নিতু এই দিকে আয়।তুই কার সাথে পালাবি ? এতো বড় সাহস তোর?তোকে বড় করেছি এইসব কথা শুনার জন্য?বাপ মার মুখে চুনকালী মাখতে চাস?পালানোর দরকার নেই।তোর যদি কোনো রাস্তার ছেলেও পছন্দ থাকে। তাহলে বলিস, আমি তোকে ওর হাতেই তুলে দিবো। তবুও আমাদের মাথা নত করিস না সমাজের কাছে।
(আব্বু কথা গুলো প্রায়ই এক নি:শ্বাসেই বললো।মুখে দিকে তাকিয়ে দেখলাম, অনেক কষ্ট পাচ্ছে।এই মুহূর্তে কি বলা উচিত্‍ বুঝতে পারছিনা।কিন্তু অভির সাথে তো পালাতে চাইনি। এটা সত্য যেমন, তেমন ওকে ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারি না এটাও সত্য।কিন্তু এখন আব্বুকে অভির কথাও বলা যাবেনা। তাহলে আব্বু আরও কষ্ট পাবে।যেই পরিমাণ আমাকে বিশ্বাস করতো, সেই পরিমাণ ঘৃণাও জমাতে পারে।এতক্ষণ চুপ করে ভাব ছিলাম, আব্বুর ডাকে ভাবনার জগত্‍ থেকে ফিরলাম।)
কি রে কথা বলছিস না কেন?
আমি-বিশ্বাস করো আমি কারো সাথে পালাতে চাই নি।
TUE 10:28PM
আব্বু- তাহলে ছেলের বাবা বললো কি করে?
আমি-তা আমি কি করে জানবো? সবই গুজব , এসব কথাতে কান দিবেননা প্লিজ।আমি কারো সাথে কেনই বা পালাবো? আর আমি ভালোভাবেই অনার্সটা শেষ করতে চাই।
আব্বু- ঠিক আছে।কিন্তু আমি যেন তোর নামে কারো কাছে থেকে কোনো প্রকাশ কটু কথা না শুনি। যদি শুনি তাহলে তোকে কখনোই ক্ষমা করবো না। আর তোর যদি কাউকে ভালো লেগেই থাকে।তাহলে আমাকে বলিস , সে রাস্তার ছেলে হলেও আমি তোকে তার হাতে তুলে দিবো। তবুও আমাদের মুখে চুনকালি মাখিস না। সমাজের কাছে মাথা নত করিস না।আমি তোকে বিশ্বাস করি, সেই বিশ্বাসে অমর্যাদা করবি না। কথা টা যেন মাথাতে থাকে।
এটা বলেই আব্বু চলে গেলো।আমি জানি আব্বু অভির বেপারে জানেনা।আম্মু শুধু জানে কারো সাথে কথা বলছি। যেটুকু ফাহিম বলেছে। আম্মু আব্বুকে পাত্র খোঁজতে বললেও অন্য কিছু যে বলবে না সেটা ভালো করেই জানি। এই দিকে আমার অনার্স শেষ হলে অভিরও চাকরীর একবছর পূরণ হবে। ততদিনে সে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারবে।আমার বিশ্বাস এক বছর পরে অভি নিজেই আসবে আব্বুর কাছে তার অভিভাবকদের নিয়ে।এসব ছাইপাশ ভাবতে ভাবতে রুমে চলে এলাম।অভিকে বিয়ে ভাঙ্গার কথা টা জানালাম। উফ , অনেকটাই শান্তি লাগতেছে।পরের দিন ক্লাস করতে গেলাম।
গিয়ে দেখি ফাহিম বসে আছে সামনের সারিতে।আমি গিয়ে ওর পাশেই বসলাম।আমার দিকে রাগী মুডে তাকালো,
ফাহিম- ওই শাকচুন্নী, এতোক্ষণে আসছিস?
আমি- কেনো কি হয়েছে ?
ফাহিম- কি হয়েছে? ইচ্ছা করতেছে তোকে খুন করে ফেলি।তুই আম্মুকে কি সব বলছিস?
আমি- তুই যেমনটা আমার আম্মুকে বলেছিলি, তেমনটাই আমিও আন্টিকে বলেছি।পার্থক্য হলো, তুই সত্য বলছিস ।আর আমি মিথ্যা বলছি।তাতে কি হয়েছে? তুই আমার পিছে লাগবি , আর আমি তোকে ছেড়ে দিবো ভেবেছিস? ভুল ভেবেছিস চান্দু।এরপরে যদি আবার লাগিস, এর বেশি মিথ্যা বলে তোকে শায়েস্তা করবো।
ফাহিম- মাফ চাই বইনা(বোন)।তুই যা খুশি কর , আমি আর কাউকে কিচ্ছু বলবো না।তবুও প্লিজ আমার হাত খরচের টাকাটা বন্ধ করিসনা।আর আম্মুরে আমার পিছে লাগাস না।
আমি- ঠিক আছে। আমি সব ব্যবস্থা করে দিবো আবার।কিন্তু তোকে আম্মুর কাছে বলতে হবে, সেদিন তুই এক বন্ধুর সাথে দেখেছিস আমাকে।কোনো দরকারে কথা বলছিলাম চা খেতে খেতে। বলতে পারবিনা?
ফাহিম- পারবোনা মানে? অবশ্যই পারবো।তবে সেই ছেলেটা কে আগে বল।
অভির কথা ফাহিমকে বললাম।এরপরে ফাহিমও আম্মুকে এসে বলেছিলো।তারপরে আর আম্মু সন্দেহ করেনি।আমিও ফাহিমের আম্মুকে লেকচার শীট, এসাইনমেন্টের জন্য টাকা লাগবে। সেগুলো বলে ফাহিমের হাতখরচের টাকাও ফিরিয়ে দিলাম।
অত:পর ভাবলো ভাবেই চলছে , আমাদের গুজবহীন সম্পর্ক।দোয়া করবেন আমাদের জন্য একবছর পরে যেন দাওয়াত দিতে পারি।আর হ্যা , এর মাঝে কোনো গুজবে কান দিবেননা, যে আমরা বিয়ে করে ফেলেছি :p।


                                                             ****সমাপ্ত***

রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৮

চলো ফিরে যাই
জোনাকী আক্তার
-------------------------------------
ঝুমঝুম শব্দে মনের কোণে ইচ্ছা জাগে ফিরে যাই
ফেলে আসা বাদলা দিনের শৈশবের ভেলায়,
অজস্র দিন রয়েছে জমে স্মৃতির পাতায়
বার্ধক্য পেরিয়েও দিনগুলো ভুলা কি যায় ?
মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাড়ার ছেলেমেয়ে বেঁধে জটলা,
বিলে-ঝিলে ফুটা লাল- সাদা শাপলা তুলা,
কখনো বা ভরা পুকুরে ডুব-সাঁতার খেলা
কর্দমাক্ত রাস্তা পিচ্ছিল করে কেটে যেত বাদল বেলা।
স্কুল থেকে ইচ্ছা করে ফিরতাম ঘরে কাকভেজা হয়ে
কি যে মজা পেতাম খুঁজে আজলা ভরে বাদলের পানি দিয়ে,
দুষ্টুমী করে ছুঁড়ে মেরে একে অন্যকে ভিজিয়ে
লেগে যেত প্রতিযোগীতা কে দিবে পানি কাকে ডিঙিয়ে।
বাদলে অতি ভিজার ফলে জ্বরকে আর কে রুখে
একদিকে বাদলের ঢল নামতো বাইরে অন্যদিকে মায়ের চোখে
ভোরে ফুটে উঠতো নির্ঘুম রাতের ক্লান্তির ছাপ মায়ের চোখে মুখে
চোখ মেলে তাকাতেই দিতেন বকনি কপালে হাত রেখে।
ফিরে পেতে চাই এমনই এক দিন, যে দিন হবে অমলিন
যে দিন হবে শৈশবের মত উদ্যম আর বাঁধনহীন,
তুমি, আমি, আমরা সবাই হয় না যতই প্রবীণ
চলো সবাই মিলে স্মৃতির ফ্রেমে আটকে দেই আরও একটি বাদলা দিন।

সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮

মূর্দা
জোনাকী আক্তার
*****************************
আজ বাদে কাল হয়তো হবে মূর্দা
কিসের এতো দাম্ভিকতা -
কিসের এতো অহংকার ?
এক সেকেণ্ডের নাই নি:শ্বাসের বিশ্বাস
ভুলে গিয়ে যেন গড়ছো টাকার পাহাড়,
কি হবে এতো ধন-দৌলতের ?
রেখে যেতে হবে সবই।
চোখ বুঝলেই আঁধার দেখবে
কেউ হবে না সঙ্গী তোমার,
যাকে আজ নয়নের মণি করে রেখেছো
সে শুধু দু'ফোটা জলই ফেলবে।
হয়তো তোমার স্নেহশোকে মূর্ছা যাবে
একদিন, দুইদিন অনাহারে থাকবে,
তারপর আস্তে আস্তে ভুলে যাবে
সে কারও চোখের মণি ছিলো।
তোমার কষ্টার্জিত অর্থ পানির মত করবে ব্যয়
তখন তোমার নামও কেউ আর নিবে না,
কি লাভ এতো কষ্ট, পাপচার ,অন্যায় করে-
কারো বুকে লাথি মেরে অর্থাপার্জন করা ?
যেখানে বসতটাই আমাদের চুরাবালিতে,
কখন যে হারিয়ে যাবো সে অতলে ,
কারো জানার ছিঁটেফুটাও সাধ্য নেই
নেই সাধ্য বসত বানাতে চুরাবালি থেকে একটু দূরে।
চলনা সবাই বন্দনা করি, হে খোদা !
দাও হিম্মত , করো পাপ মোচন
দেখাও সে পথ, যে পথে তোমার দেখা পাই
মউত যেন হয় সবার ঈমানের সহিত।

মঙ্গলবার, ২৬ জুন, ২০১৮

#কাব্যকথন (আমি ও অনিমেষ)
লেখক : জোনাকী আক্তার

****************************************************

আমি :
তোমার শহরে যখন হয় সূর্য অস্তাচল
আমার শহরে তখন নামে আষাঢ়ের ঢল,
তুমি তখন ঢলে পড় সুখ নিদ্রার কোলে
আমি তখন বিনিদ্র রজনী কাটাই পুড়ে বিরহের অনলে।
এভাবেই যাচ্ছে দিন বেশ তবুও নেই কোন অভিযোগ
সুখের তরী ডুবিয়ে আমার তুমি একাই করছো সুখ ভোগ,
কি বলবো তোমায় কয়েক বছর পর দেখা হওয়ায় ?
কি বলবো তোমায় কয়েক বছর পর দেখা হওয়ায় ?রে চাইতাম তোমায়
শুধু একবার এসে বলে যেতে এভাবে ভেঙ্গে পড় না
আমি তো আছি তোমার পাশে , অনুভূতিতে আর কেঁদোনা।

অনিমেষ :
আঁধার রাতে ক্ষীণ আলোয় যেভাবে জোনাক জ্বলে
তুমি , তোমার স্মৃতি ভেসে উঠে আমার অন্তরালে,
যদি বলো তোমাকে কষ্টে রেখে আমি সুখে আছি
তবে বলবো তুমি ভুল আমিও অনুশোচনার অনলে পুড়ছি।
তোমার অশ্রুশিক্ত চাহনী বার বার ভেসে উঠেছে মানসপটে
ইচ্ছা করতো সেই অশ্রু মুছে জড়িয়ে ধরি জাপটে,
আর বলি তোমাকে একা রেখে কোথাও যাবোনা
কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি বলতে পারিনা ।

আমি :
সেই বাস্তবতার কথা আমি আর শুনতে চাইনা
যে বাস্তবতা এলোমেলো জীবনকে সাজিয়ে দিতে পারবেনা,
পারবেনা পূর্ণ করে দিতে হৃদয়ের মাঝে সৃষ্ট শূণ্যতার গহ্বর
সব থেকে আপন ভাবা মানুষকে যে বাস্তবতা করেছে পর।
বলতে পারো আমার দোষ টা কোথায় ছিলো ?
যে জন্য আমার ভালোবাসাকে জলাঞ্জলি দিতে হলো,
আমি কি চেয়েছিলাম স্রোতের বিপরীতে চলতে ?
চেয়েছিলাম যত কঠিন বাস্তবতায় হোক মানিয়ে নিতে।

অনিমেষ :
আমি চাইনি কারন হতে তোমার নির্ঘুম রাত কাটানোর
চেয়েছিলাম তোমার চোখে ঘুম কিংবা গান হতে ঘুম পাড়ানোর,
চাইনি তোমায় কষ্টরা এসে ছুঁয়ে যাক নির্মমতায়
চেয়েছিলাম দু'হাতে আগলে রেখে ভরিয়ে দিতে ভালোবাসায়।
সময়ের টানে ছুটছি আমি এক যান্ত্রিকতার মায়াবলে
কি করে বুঝাবো তোমায় আমিও কষ্টাঘাতে হচ্ছি শেষ তিলে তিলে,
ছেলেদের যে কাঁদতে নেই, পিছুটানে হটতে নেই
হাসতে হয় সবার সাথে তাল মিলিয়ে
একরাশে যন্ত্রণায়।
তবে তোমায় বলবো ভালো থেকো পুরোনো স্মৃতি ভুলে
নতুনত্বের মাঝেও ভালোবাসা খোঁজে পাবে জীবনটাকে আবারও সাজালে,
আজও বিদাই জানাই তোমার তরে শুভ কামনায়
এমনই করে যেন আবারও দেখা হয় দু'জনার আমি রইবো সেই প্রতীক্ষায়।

আমি :
দেখলে তো খুব সহজেই বলে ফেললে ভালো থেকো
কিন্তু তোমাকেও মনের বেখেয়ালে যদি বলি ভালো রেখো
জানি তুমি তোমার অক্ষমতার কথা বলবে
ভালোবাসাহীন কেউ ভালো থাকতে পারে না তা তুমি কি করে বুঝবে ?
তুমি প্রতীক্ষাতে থাকলেও আবারও দেখা হোক আমি চাইনা
আর শুনতে চাইনা তোমার মিথ্যে মিশানো স্বান্তনা ,
জীবন আমার যেভাবে চলছে সেভাবেই চলতে থাকুক
চাইনা নতুন ভালোবাসার খোঁজে আরও কষ্টে ভরুক।
আমি তো বেশ আছি কষ্টগুলোকে অনলে পুড়িয়ে
বুকের ভেতর জমানো দু:খগুলো কে বাতাসে উড়িয়ে ।
সেদিনও বিদায় লগ্নে কিছুই বলার ছিলো না আজও নেই
আমি শূণ্যতায় হারিয়ে গেলেও ভালো থেকো তুমিই ।

কেন এমন হয় জোনাকী আক্তার ************************** ভাঙা গড়ার খেলায় নিজেকে বারবার গড়ি, দু:খ-সুখের ভেলায় ঘুম ভাঙার মতই কেটে যায় সুখের রেশ...