তিন্নী বললো , সে হবে না আমরা দুইজন যাবোই।প্লিজ আপু একটা ব্যবস্থা করে দাও।ঠিক আছে , তোরা দুইজন মিলে খালামণিকে বলিস।উনি রাজি হলে তোরা যেতে পারবি।কিন্তু ফুফুকে কি বলবো ?
কিছুক্ষণ ভাবার পরে বললাম, খালামণিকে বলবি সবাই ত যাচ্ছে কথা বলাৰ জন্য।কিন্তু কথা বলার ফাঁকে ত চারপাশ ঘুরে দেখার জন্য লোক লাগতে পারে। সে কাজ ত বড়রা করতে পারবেনা কথা বলার ফাঁকে।তাই তোদের দুইজনকে সাথে নিলে পুরো বাড়ি ঘুরে দেখতে পারবি। এই ফাঁকে ছেলেও দেখা হলো।
নিশো বললো, আপু তোমার মাথাতে এতো বুদ্ধি কই রাখো ?তিন্নী খুশিতে জড়িয়ে ধরলো।খালামণিকে রাজি করানোর জন্য চলে গেলো।
ওদের দুইজনের আবদার খালামণি ফেলেনি।প্রথমে অবশ্য আম্মু আর মামী বারণ করছিলো।
পরের দিন বিকেলে মামী, খালামণি, আব্বু, মামা আর ওরা দুইজন অভিদের বাসাতে গেলো।আব্বু আগের দিন নাকি অভিদের এলাকা থেকে খোঁজ খবর এনেছে।তাদের পরিবারের মানুষ কেমন ?অভি ছেলে হিসেবে কেমন ?সব জেনেই বাসাতে দেখতে যাচ্ছে।
আমি ক্লাস করে আসার পরে শুনলাম সবাই চলে গেছে।বাসাতে শুধু আম্মু একা আছে।নিজের রুমে চলে গেলাম।
ফ্রেস হয়ে এসে দেখি ফোনে রিং হচ্ছে। এমন সময় আবার কে ফোন দিলো ?বলেই ফোন চেক করে দেখি অভির কল।
আম্মুর কাছে গেলাম। আম্মু বললো ,চল তোর খাবার দিয়ে আসি।বললাম, তুমি টিভি দেখো আমিই খেয়ে আসি।আম্মু বললো, ঠিক যা, টেবিলেই সব খাবার রাখা আছে।
তারপরে খেয়ে এসে আম্মুর পাশে বসলাম।কোনো কারনে আম্মুকে চিন্তিত মনে হচ্ছে। তাই জানতে চাইলাম:
আম্মু-আমারে দেখে কি তোর খালামণির মত মনে হয়?তোর পছন্দ আছে কিনা সেটা আমাকে বলে দেখতে পারিস।সবাইক মেনেজ আমি করবো।
আমি-না, তুমি খালামণির মত না।তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের মত।
আম্মু- হইছে থাক আর বলা লাগবেনা।সত্যি করে বল তো, তোর কি কাউকে পছন্দ? তা না হলে এমন কথা বললি ক্যান?
আমি-ওই রকম কিছুনা।বাদ দাও , তোমার যা বলবে তাই হবে।
আম্মু-আরেহ, বলবি ত আগে আমাকে।পছন্দের কেউ থাকলে , অন্য কারো ঘরে শান্তিমত সংসার করতে পারবিনা।আমি চাই না তোরা নিজের ভেতর কষ্ট চেপে রাখ।
আমি- (কোনো ভণিতা না করে) রাগ করবে না ত?আজকে সবাই যাকে দেখতে গেছে।ওকে আমার ভালো লাগে।কিন্তু সে কথা তোমাক বলার মত সাহস পাইনি।আর তোমাকে বলবো বলবো করেও সে ভাবে সময় পাইনি।অভিকে আমি ভালো করেই চিনি।তুমি দেখলে তোমারও পছন্দ হবে।আমাকে নিয়ে চিন্তার কোনো কারন নেই।তবে আমি চাই তোমরা সব কিছু দেখেশুনে মতামত দাও।
আম্মু- ও বুঝতে পারছি এখন।নাহিদের সাথে কথা হবার পরে থেকেই তুই কেনো এতো চিন্তাতে ছিলি? আমি না তোর বেস্ট ফ্রেন্ড ?তাহলে আমাকে আগে বললি না ক্যান? আমি ত তোদের আগেই বলছি, কাউকে পছন্দ হলে আমাকে বলতে।
আমি-তার মানে তুমি এখন চিন্তামুক্ত।তোমার মেয়ে অপরিচিত কারে ঘরে যাচ্ছে না।
আমি-পরিচয় ত অনেক দিনের তিন বছরের মত হবে।কথা বলতে কেমনে দেখবে ?আমি কি দরকার ছাড়া কারো সাথে কথা বলি? আমি যেমন দরকার না হলে কারো সাথে কথা বলিনা , তেমন অভিও। ও একটা ক্যাম্পের ট্রেইনার ছিলো।সেখান থেকেই ওকে চিনি।
আম্মু- ঠিক আছে , ওরা আসুক দেখি কে কি বলে? তুই রুমে গিয়ে রেস্ট নে।আমার হাতের কিছু কাজ আছে করতে হবে।
রুমে চলে আসলাম , যাক এখন কিছুটা হালকে লাগতেছে নিজেকে।জানতাম, আম্মু আমাকেই সাপোর্ট করবে।ভালোবাসাকে আম্মু যথেষ্ট সম্মান করে।আম্মুর কাছে থেকেই আমারও শিখা ,ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করে।আম্মু বলেন, তুই যদি কারো ভালোবাসাকে অসম্মান না করিস।তবে অন্য কেউ তোর ভালোবাসাকে অসম্মান করবেনা।হতে পারে উনার ধারনা মিথ্যা।তবে আমি সে কথায় বিশ্বাস করি।কেউ আমার ভালোবাসাকে অসম্মান করলে ত আমার কিছুই করার নেই।সেটা ভাগ্যের লিখন ধরে নিতে হবে। বারান্দায় বসে ভাবছি আর আমার পছন্দের গান শুনতেছি।
part- 17
এমন সময় দুই বিচ্চুর রুমে প্রবেশ।
দুইজনে একসাথে আমাকে ডাকছে। কি রে এভাবে চেঁচাচ্ছিস ক্যান ? কি হইছে তোদের ? আসছিস ভালো কথা একজনের কি ডাকা যায় না? রুম টা একেবারে মাথায় তুলে ফেললি?
তিন্নী বললো, আরে থামাও তোমার লেকচার। আমি কিন্তু পুরো ফ্ল্যাট ছেলেকে দেখে।
আমি বললাম, ওমা! তাই নাকি ?তাহলে এক কাজ করি মামা - মামীকে ম্যানেজ করে তোরই বিয়ের ব্যবস্থ্যা করে দেই।
ও কিছুটা লজ্জা পেলো। ধুরর কি যে বলো না তুমি? আমার মত বাচ্চা মেয়ের কি বিয়ের বয়স হয়েছে? শুধু বিয়ের খাওয়ার বয়স হইছে নিশো বললো।
তিন্নী কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো, তোমরা দুইবোনে আমাকে পঁচাচ্ছো ক্যান? এখন কিন্তু কেঁদেই ফেলবো।
আরে থাম থাম, তোর কাঁদতে হবে না। কি রকম দেখলি তোরা? সব পছন্দ হলো তোদের ?সবাই কি বলেছে?
নিশো বললো আব্বু, মামা, খালামণিকে দেখে মনে হলো পছন্দ হইছে। শুনে মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বললাম।
আব্বু কি বলেছে জানতে চাইলাম।
নিশো বললো, আব্বু উনাদের দুইদিন পরে আসতে বলেছে।
ঠিক আছে, তোরা একটু ফ্রেস হয়ে রেস্ট নে।
একটু পরে রুমে খালামণি আর মামী আসলো। খালামণি মামীকে বললো , দেখো ত কোনো কিছু গুছানো লাগবে কিনা ?
খালামণি কে বললাম, রুম গুছানোই ত আছে।আবার গুছাতে হবে কেন ?
উনি বললেন,সে তোকে জানতে হবে না।
মামী বললো, না না ওরে বলা দরকার।আসলে কালকে তোমাকে দেখতে আসবে। উনারা বললো, কালকেই নাকি রিং পড়াবেন।তারপরে একটা শুভদিন দেখে দিন ঠিক করবেন।
আমি বললাম, আমাকে ত আগে বললেন না।কারা আসবে ? আমি ত দেখলামই না ।এসই রিং পড়াবেন এ কেমন কথা?
খালামণি বললো, অত শত তোকে জানতে হবে না।ছেলের পরিবার আমার পছন্দ হয়েছে।ছেলেও মাশাল্লাহ ভালোই। তুই কালকে আর ক্লাস করতে যাস না।বাসাতেই থাকতে হবে তোকে।তারপরে মামীকে সাথে করে নিয়ে চলে গেলেন ।
কালকে দেখতে আসবে , আর আমার ক্লাস করা অফ। দেখতে ত আসবে বিকেলে।ক্লাস করে বাসাতে চলে আসতে পারবো তাদের আসার আগেই। ক্লাস মিস করার ত কোনো দরকারই পড়েনা।
দিলাম অভি কে কল।দুইবা রিং হবার পরে রিসিভ করলো
অভি-হ্যালো মেম, বাসাতে গিয়ে কি কিছু বলেছে আপনাকে?
আমি-বলছে বলেই তোমাকে কল দিলাম।
অভি- আপনার কণ্ঠ অমন রাগী রাগী শোনাচ্ছে ক্যান? ক্ষেপলেন কার উপর?
আমি- তোমাদের উপরই।তোমরা আসবে বিকেলে।
তোমরা আসবে বিকেলে আর আমার সকালে ক্লাস করা অফ।এইটা কি ঠিক হলো?বিয়ে হতে না হতেই ভার্সিটিতে যাওয়া অফ হচ্ছে।না জানি পরে কি হয়?
অভি- কি যে বলেন আপনি? একদিন ক্লাস না করলে কিছুই হবেনা। আর বিয়ের পরের বেপারে এখন ভাবতে হবেনা। ক্লাস তখনো করতে পারবেন।এক কাজ করেন কোনো ফ্রেন্ডকে বলে রাখেন কালকে ক্লাস করতে যাবেন না।যা ক্লাসে করাবে তা যেনো আপনাকে ছবি তুলে দেয়।ব্যাস, এতে রেগে যাবার কিছুই নেই।
আমি- হুম , বুঝেছি।তোমাকে বলে আর লাভ নেই।রাখছি।
অভিকে ফোন করার পরে এক বান্ধবীকে ফোন করলাম। দেখতে আসার কথা ওকে জানিয়ে দেওয়ার পরে ফয়িন্নী ট্রিটের বায়না ধরেছে।কি আর করা ক্লাসের পড়া জেনে নিতে হলে ট্রিট ত দিতেই হবে।তাই রাজি হয়ে গেলাম। ওর সাথে কথা বলার পরে সব ফ্রেন্ডরাও ফোন করা শুরু করেছে। হ্রামি টা সবাইকে বলে দিছে। কালকের পরের দিনই সবাইকে ট্রিট দিতেই হবে। না হলে ক্লাসই করতে দিবে না শান্তি মত।ওদের সবাইকে নিরুপায় দেখে ট্রিট দিতে রাজি হলাম।ফ্রেন্ড বেশি না , বারো জনের মত থাকবে।বারো জন এক সাথে ক্যাম্পাসের মাঠে বসলে , যেনো মাছের বাজারে মত অবস্থা হয়ে যায়।সবাই এক একটা বাচাল কম্পানীর ম্যানাজার।
পরেরদিন আর ভার্সিটিতে গেলাম না।
part 18
তবে মনে মনে ঠিক করে নিলাম ,অভিরে মজা দেখাবো। একদিন ক্লাসে না গেলে নাকি কিছুই হবে না।
বিকেলে অভি, অভির আব্বু,আম্মু সহ আরো চারজন আসছে।তাদের কে চিনি না।মামী শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছেন।খালামণি দুই বিচ্চুকে(নিশো, তিন্নী) বলেছে হালকা সাঁজোগোজো করাতে।ব্যাস লেগে গেছে ,দুইজনের সাঁজানোর প্রতিযোগীতা।অবস্থা দেখে বললাম, এমন ভাবে সাজাচ্ছিস যেনো আজকেই বিয়ে।যা ভাগ তোরা।আমি নিজেই সাজতে পারবো।ওরা বললো, তোমার সাঁজা লাগবেনা। আমরা আছি কি জন্য ?ওদের ঘষা মাজার হাত থেকে মুক্তি নিয়ে ড্রয়িং রুমে গেলাম।হাতে ফলের শরবতের গ্লাস ধরিয়ে দিয়েছে আমাকে।খালামণিকে বললাম, একটু অপেক্ষা করতে।তারপরে গ্লাস গুলো কিচেনে নিয়ে গিয়ে অভিকে যে গ্লাস দিবো সেটা দুই চামচ লবণ মিশিয়ে দিলাম।
তারপরে সবার সামনে গেলাম।সবাইকে সালাম দিয়ে শরবতের গ্লাস টেবিলে রাখলাম। মামা বললো, সবাইকে দিতে। ব্যাস আমি সবাইকে দিলাম।সাথে অভিকেও লবণের শবরতটা দিলাম। মনে মনে বললাম খাও খাও ভালো করে লবণের শরবত খাও।অভি গ্লাসে চুমুক দিয়েই মনে হচ্ছে শক্ড খাইছে।আমার যে কি হাসি পাচ্ছে ওর অবস্থা দেখে।সবাই খাচ্ছে শরবত, ও রেখে দিলে ত বেমানান দেখাবে।তাই কষ্ট করে পুরোটাই খেয়েছে।
তাদের মাঝে থেকে শুধু একজন আমার নাম জানতে চাইলো।তারপরে অভির আম্মু অভিকে রিং বের করে দিলে বললো আমাকে পড়িয়ে দিতে।ওদের মাঝে থেকে কে যেন বললো , আমার হাত এগিয়ে দিতে।আমি অভির দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম।ফাজিলটা আমার হাতে চিমটি কেটে দিছে।ওর দিকে তাকিয়ে দেখি মুচকি মুচকি হাসতেছে।মনে মনে বললাম, আমাকে চিমটি কেটে হাসা হচ্ছে।একবার সুযোগ পাই তোমার হাসি বের করবো। আব্বু বললো, দুইজনের মাঝে আগে আলাদা ভাবে কথা বলা দরকার।আব্বু অভিকে নিয়ে রুমে যেতে বললো।মনে মনে বললাম, এই তো আমার শ্রদ্ধেয় আব্বাজান আমার মনে কথা বুঝেছেন।ফাজিলের ডিব্বা এবার তোমার চিমটি দেওয়ার শখ মিটাবো। অভিকে নিয়ে আসতেই ওর হাতে দিলাম জোড়ে চিমটি।আরে মেম , করছেন টা কি ? ব্যথা পাচ্ছি ত।
বললাম, ভালো হইছে।সবার সামনে আমার চিমটি দিয়ে হাসছিলে ক্যান?
অভি বললো, আরে ও স্বপ্ন দেখছি কিনা সেটা বোঝার জন্য চিমটি দিছি।
বললাম, তুমি স্বপ্ন দেখছো কিনা সেজন্য আমাকে চিমটি দিছো।আমাকে দিলে স্বপ্ন কিনা বাস্তব সেটা বুঝতে পারবেনা।দাঁড়াও আরেক বার চিমটি দিচ্ছি।
অভি বললো, না না আমাকে আর চিমটি দিতে হবেনা।মাফ চাইছি।একবারের ব্যথায় তো এখনো যাচ্ছেনা।
তার আগে বলেন, আমাকে কি খাওয়াইছেন?
বললাম, সুস্বাদু না ? নতুন রেসিপি এটা মেড বাই মি। ফলের শরবতে লবণের স্যালাইন।পুষ্টি আর লবণের ঘাটতি পুরণ একসাথে হবে।ভালো হইছে না রেসিপি টা ?
অভি বললো, ডিম হইছে।এই সব কেউ জেনে শুনে খাবেনা।এই অখাদ্য টা আমাকে ক্যান খাওয়ালেন?আমি কি করেছি ?
বললাম , রাতের কথা ভুলে গেছো? একদিন ক্লাস না করলে কিছুই হবেনা।তাই একবার ওইসব অখাদ্য খেলে কিছুই হবেনা। আমার সাথে ত্যাড়ামি করলেও ওইসব খাবারই জুটবে।
অভি মাথায় হাত দিয়ে বললো, ও আল্লাহ এ আমি কার হাতে পড়লাম?এই শুনেন, আপনার যা খুশি কইরেন।আমি আর কিছুই বলবোনা।
রুমে দুই বিচ্চু আসলো, কি বেপার তোমরা দুইজনে ঝগড়া করতেছো ক্যান?
দিলাম এক ঝারি, তোদের দুইজনকে আড়ি পেতে শুনতে কে বলেছে?
নিতু ভয়ে ভয়ে বললো, আপু আমরা তেমন কিছুই শুনি নাই।বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিলো তোমরা ঝগড়া করতেছো।
বললাম, তোরা কি বাইরে ছিলি ?
তিন্নী বললো, বাইরে ছিলাম না। নীচে যাবার জন্য ডাকতে এসেছি।
অভি বললো, তোমাদের আপুকে চলচিত্রে খলনায়িকার চরিত্রে দিলে খুব মানাতো।একদম খাপে খাপ।কোনো ছাড় দেওয়ার স্বভাব নেই।
তোরা যা পরে আসতেছি ওদের দুইজনকে বললাম ।
দুই হাতে অভির শার্টের কলার ধরে বললাম, আমি খলনায়িকা?
অভি হাত দিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করে না পারাই বলে , দেখেন ওরা আবার আসছে।ছেড়ে দিয়ে যেই পিছনে তাকাতে যাবো।ওমনি অভি কপালে চুমু খেয়ে বলে আপনি বে বসে রাগে ফুলতে থাকেন। আমি নীচে গেলাম।ওর এমন কারবাক ধেখে আমি পুরাই থ মেরে গেলাম।
বিয়ের দিন ,তারিখ ঠিক করে অভিরা চলে গেলো। দুই সপ্তাহ পর বিয়ে।
part 19
রুমে এসে তিন্নী আর নিশো জানতে চাইলো আমি অভি কে আগে থেকে চিনি কিনা? বললাম, হুম চিনি একটু।ওই ফাজিলের কথা বাদ দে।
নিশো বললো, ঠিক আছে।তবে আমরা কালকে থেকেই শপিং করা শুরু করে দিবো।
বললাম, যা খুশি কর।এখন যা পড়তে বস তোরা।ওরা চলে যাবার পরে ফ্রেন্ডদের ফোন করে জানালাম।
অভি টেক্সট করেছে , স্যরি মেম আপনাকে রাগানোর জন্য।তবে আপনার রাগী মুখটা কে মিস করতেছি।ওরে উত্তর দিলাম, মিস করা বাদ, কালকে বিকেলে আমাদের ক্যাম্পাসে আসতে হবে।
পরেরদিন আম্মুর কাছে থেকে টাকা নিলাম।আম্মুকে বললাম, সবাইকে খাওয়াতে হবে।সেজন্য বাসাতে ফিরতেও দেরি হবে।আম্মুর থেকে টাকা নিয়ে ক্যাম্পাসে গেলাম।ক্লাস শেষে সবাই মিলে ক্যান্টিনে গেলাম।যে যা খাবে তাই অর্ডার করলো।খাওয়া শেষে সবাই মাঠে চলে গেলো।
আমি আর এক বান্ধবী(ফারিয়া) বিল দিতে গেলাম।ক্যান্টিন থেকে বের হবার সময় ফারিয়া বললো, নিতু তোকে একটা কথা বলবো।রাগ করবি না ? ওকে বল, রাগ করবোনা।
ও বললো, জানিস রিফাত তোকে ভালোবাসে।তুই কাউকে পছন্দ করিসনা, আর প্রেম করাও তোর পছন্দ না।তাই ও তোকে বলতে পারেনি।আমাদেরও বলতে না করেছে।যদি রাগ করে কারো সাথে কথা না বলিস।রাতে নাকি অনেক কেঁদেছে তোর জন্য।
ওর কথা শুনে আমি ত অবাক।কি বলিস এই সব?ও ত জানে আমি কাউকে ভালোবাসতে পারবোনা।তবুও কেনো কষ্ট পেতে গেলো?
মাঠে গেলাম, রিফাতকে একটু দূরে ডেকে নিয়ে গেলাম।জানতে চাইলাম, কেনো এমন ভুল করলো?ও বললো, তোকে আমার ভালো লাগে এর বেশি কিছুনা।তুই এসব কথাতে কান দিস না।বন্ধুত্ব টা শুধু রাখিস , আর বেশি কিছুই চাইনা তোর কাছে থেকে।আমি চাই না কেউ আমার জন্য কষ্ট পাক।আমি জানি আমার কোনো দোষ নেই।তবুও স্যরি বললাম ওকে।
ধুরর, স্যরি বলতে হবেনা তোকে।চল আড্ডা দিতে যাই।তারপর সবার সাথে মাছের বাজারে যোগ দিলাম।এমন সময় অভির ফোন , রিসিভ করে জানিয়ে দিলাম মাঠে আসতে।অভিকে আসতে দেখে সবাইকে বললাম, তোদের জন্য সারপ্রাইজ চলে আসছে।ওরা সবাই অবাক হয়ে জানতে চাইলো কে আসছে?যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে,সেই চলে এসেছ।
তারপরে অভিকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম।সবার সাথে পরিচিত হয়ে অভিও আড্ডাতে বসলো।ফ্রেন্ডদের মধ্য থেকে একজন বললো, কি রে তুই না প্রেম করে বিয়ে করবি।তোর বিয়ে তো ফ্যামিলী থেকেই দিচ্ছে।আগে মিথ্যা বলতি ক্যান?
অভি বললো, বিয়ে কিন্তু পারিবারিক ভাবে হলেও পছন্দ কিন্তু আমাদের আগে থেকেই। এটা শুনে একজন বললো, চুরি করে ট্যাম্পু চালাস আর আমরা কিছু বললেই বলিস হরতাল। কাহিনী কি? কবে থেকে আপনাদের জল খাওয়া হচ্ছে?
বললাম, দেখ কোনো জল খাই নি , তাই বেশি কথা বলবিনা।
একজন বললো, কিন্তু কতদিনের পরিচয় ? আমাদের ত কিছুই বলিস নি।
অভি বললো, পরিচয় অনেকদিনের। কিন্তু আপনাদের বান্ধবী এখনো ভালোবাসে কিনা সেটাই বলে নাই।
বললাম, আসছে একজন ভালোবাসি শুনতে।আমার হয়ে তোরা কেউ বলে দে শুনে যাক উনি।
ওরা বললো, তোর বর তুই বলিস। আমরা আর ঝামেলার করতে যাই না।অভি সবাইকে বিয়েতে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করলো।আড্ডা শেষ করে চলে আসলাম বাসাতে। সবাই কে দেখলাম ড্রয়িং রুমে কি জানি হিসাব করতে।
রুমে আসলাম, ফ্রেস হয়ে একটা ঘুম দিলাম।দেখতে দেখতে বিয়ের তারিখ কাছে চলে আসে।এর মাঝে বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে বিলি করা হয়।বাবার বড় মেয়ে আর ওই দিকে অভিও একমাত্র সন্তান।
তাই আয়োজনের কোনো ত্রুটি বা কমতি রাখেনি।ধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হয়।বিয়ের প্রথম রাতে অভি শুধু একটা কথায় বলেছিলো, মেম, আপনাকে অনেক বিশ্বাস করে ভালোবেসেছি।এর অমর্যাদা করবেননা।আমার বাবা-মাকে কখনোই শুশুড়ি-শাশুড়ি মনে করবেননা।তাদেরকে নিজের বাবা-মা মনে করবেন।উনারা কোনো দোষ করলে আমাকে বলবেন, তবুও উনাদের মন কষ্ট দিবেননা।আর আমার বাবা- মা আপনাকে নিজের মেয়েই মনে করবে।
ওকে বললাম, তুমি ওসব নিয়ে ভেবোনা।আমি ঠিক সামলে নিবে সব কিছু।তারপর প্রথমবার অভিকে ভালোবাসি বলি।স্রষ্টা সেজন্য ধন্যবাদ জানাই এমন একজনকে স্বামী হিসেবে পেয়েছি।
তারপরে কেটে গেছে তিন বছর। আজ আমাদের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী।ঘর সাজিয়ে অভির জন্য বসে আছি।সেই ফাঁকে ফিরে গিয়ে ছিলাম তিনবছর আগে।কলিং বেলের শব্দে আমার ভাবনাতে ছেদ পড়ে। অভি চলে এসেছে হাতে ফুল আর কেক নিয়ে।তারপর বাসার সবাই মিলে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী পালন করি।ও হো , বলায় ত হয়নি আমাদের ঘরে একজন নতুন অথিতিও এসেছে।একদম অভির ফটোকপি।তবুও অভির অভিযোগ মেয়েটা নাকি আমার মত হয়েছে।দুইজনের নামের সাথেই মিল রেখে শশুড় মশায় নাম রেখেছে অন্তু। তা না হলে দুইজনের মাঝেই নিজের মেয়ে দাবি নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকতো।
মেয়েটা নয় মাসের হলেও দুষ্টামী করে অনেক।সেজন্যই বলে একদম মায়ের মত পাজি হয়েছে।
রাগ ,অভিমান ,হাসি,আনন্দে কেটে যাচ্ছে আমাদের টুনাটুনি সংসার।এভাবেই যেন থাকে আমাদের দুইজনের মাঝে সুপ্ত ভালোবাসা অটুট।